Untitled Document
ভাদ্র সংখ্যা ১৪১৮
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
আহ্ হুরহুরি!
মীরপুর বোটানিকালে যাব আজ কথা হয়ে আছে বহুদিন অবন্তীর সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত যাওয়া হলো, পত্রিকা অফিসের নাদান সিএনজি চালক ভুল পথে ঘুরে ঘুরে গভীর রাতে রূপনগর পৌঁছে দিলো। এখানেই অবন্তীদের বাড়ি। ভোরে বোটানিকালে ঢুকব বলে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। ঠেলাঠেলিতে ঘুম ভেঙে দেখি আটটার ওপরে বাজে। তাড়াতাড়ি কিছু মুখে দিয়ে দু’জনে বেরিয়ে পড়ি। রূপনগরের সরু গলির ঘনবসতি ধরে মিনিট দশেক হাঁটতেই বোটানিকাল গার্ডেনের পেছন সীমানার দেওয়াল। সেখানে এক ভাঙা। শুনলাম গার্ডেন কর্তৃপক্ষ সেই ফাঁক বন্ধ করার চেষ্টা করেছে কয়েকবার। কিন্তু যতবারই দেওয়াল মেরামত করে ততবারই রাতের অন্ধকারে কারা যেন ভেঙে দেয়। শেষে মেরামতের চেষ্টায় ক্ষান্ত দিয়ে ফাঁকের মুখে টিকিটবাবু বসিয়েছে তারা। দেওয়াল পেরিয়ে মুগ্ধ হলাম। এ বছর বর্ষা দেরীতে এসেছে, ভাদ্র মাসের শেষেও তাই হাওয়ায় ভিজে ভাব প্রবল। সেই ভিজে ভাব গায়ে মেখে, সারা বর্ষার জলে ভেজা গাছগুলো সবুজের চন্দ্রাতপ রচনা করেছে। ঢাকা শহরের এরকম এক প্রিয় জায়গা আমার রমনা পার্ক। যাওয়া হয় না সচরাচর, কিন্তু যখন যাই, বিশেষ করে বর্ষায় মুগ্ধ হয়ে যাই। সবুজ এত সুন্দর।

এবার অবশ্য বোটানিকালে আসা হয়েছে বিশেষ এক উদ্দেশ্য নিয়ে। সাপলুডুর সম্পাদক সাগর আমাকে অনেকদিন ধরে বলে আসছিলেন যেন র ফরম্যাটে ছবি তুলি। শব্দটার ইংরেজী বানান জঅড, ছবি তোলার এক বিশেষ ফরম্যাট সেটা। সাগর বলেছিলেন র ফরম্যাটে ছবির যে দর্শনদারি তাতে নাকি অন্য ফরম্যাটে ছবি তোলার ইচ্ছাই হবে না। তো এবার বোটানিকালে এলাম সাগরের সে কথা বিচার করতে। সময় কম, মেমোরি ছোট, বেশী তুলতে পারলাম না। পরে কম্পিউটারে ছবিগুলো দেখে তো অবাক, কী ঝকঝকে ছবি। হাত কামড়াতে ইচ্ছা হলো কেন এতদিন জেপিইজি ফরম্যাটে ছবি তুলেছি! বিচ্ছিরি ফরম্যাট। যাক গে।

বোটানিকালে তোলা ছবি থেকে এবার দিলাম আমার প্রিয় বনফুল বেগুনি হুরহুরির ছবি। আমি কিন্তু জানি বেগনি বানানটা। কিন্তু হুরহুরির সঙ্গে কেন যেন বেগুনি শব্দটাই মানানসই। বলিও তো সেভাবেই! বেগুনি হুরহুরি এক অনমনীয় জেদী গাছ। মানুষের উৎপাতে দেশ থেকে অনেক বনজ গাছ উধাও হলেও এটা মনে হয় সহজে যাবে না। ফুল থেকে চিকন ছোট ছোট মটরশুঁটির মতো ফল বেরোয়। আর তার থেকে কালো কালো বিচি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানেই একটু পানি জোটে সেখানেই অঙ্কুর জন্মে যায়। ভীষণ পানিপিয়াসী গাছ। একবার আমার আটতলার জানালায় এক বেগুনি হুরহুরি গাছকে লাই দিয়েছিলাম Ñ দেখি কতটা বাড়তে পারিস। তা শেষে আমার জানালা জড়িয়ে-মরিয়ে সে এক বিশাল লতানে চেহারা নিল। প্রচুর ছোট ছোট ফুল ফোটে। ভালই লেগেছিল সেবার।


ছবি ও লেখা: প্রিসিলা রাজ আগষ্ট, ২০১১
 

ছবি ও লেখা: প্রিসিলা রাজ



          আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ

          আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ
 
 
Untitled Document
প্রদর্শনী

বাংলার জল-ছবি
তন্দ্রা মুখার্জী

video video
Copyright © Life Bangladesh
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com