Untitled Document
কার্তিক সংখ্যা ১৪১৮
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
জাপানে রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্কারের আনন্দ
(১ম পর্ব)
- প্রবীর বিকাশ সরকার


১৯৬১ সাল বাঙালি জাতি এবং সমগ্র ভারতবর্ষের জন্য ছিল অনন্য উজ্জ্বল একটি সময়। এই বছর ছিল গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শততম জন্ম বার্ষিকী। এই জন্মজয়ন্তী কবির জন্মভূমি বাংলা অঞ্চল ছাড়াও বর্হিবিশ্বের একাধিক দেশে উৎসবাকারে উদযাপিত হয়েছে।

আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ক্যানাডা, সোভিয়েত রাশিয়া (ভূতপূর্ব), মেক্সিকো, জার্মানি, ফ্রান্স, নরওয়ে, মিশর এবং এশিয়া মহাদেশের সিঙ্গাপুর, চীন ও জাপানেও ঘটা করে উদযাপিত হয় তাঁর জন্মবর্ষ। প্রায় প্রতিটি দেশেই এই জন্মোৎসব উদযাপনের পূর্বে বেশ সময় নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। বিদেশের কোনো কোনো দেশে এই ঘটনাকে সামনে রেখে ‘টেগোর সোসাইটি’ বা ‘টেগোর এসোসিয়েশন’ জাতীয় সংগঠন গড়ে তোলা হয়। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৫৮ সালে প্রফুল্ল মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘টেগোর সোসাইটি অব নিউইয়র্ক।’ পরবর্তীকালে সংস্থাটি রবীন্দ্র-জয়ন্তী উদযাপন করে। জাপানে গঠিত হয় ‘টেগোর মেমোরিয়াল এসোসিয়েশন-জাপান’ ঐ একই সালে।

অন্যান্য দেশে কিভাবে রবীন্দ্র-জয়ন্তী উদযাপিত হয়েছিল তার ইতিহাস জানা না থাকলেও জাপানে যে কী বিপুলাকারে আয়োজিত হয়েছিল তা আজকের প্রেক্ষিতে বিস্ময়ের উদ্রেক করে! ১৯৬০ সালে টেগোর মেমোরিয়াল এসোসিয়েশন-জাপান কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রকাশনা থেকে জানা যায় যে, বহির্বিশ্বে রবীন্দ্র-জন্ম-জয়ন্তী উদযাপনের জন্য তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী এবং ভারতীয় উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান পন্ডিত জওহর লাল নেহেরু কর্তৃক যে প্রস্তাব বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছিল তার মধ্যে জাপান ছিল প্রথম দেশ। কেননা রবীন্দ্রনাথের অত্যন্ত প্রিয় দেশ হিসেবে জাপানের গুরুত্ব ভাবতে হয়েছিল। শুধু যে সভা, সেমিনার, আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে বর্ষটি উদযাপিত হয়েছিল তা কিন্তু নয়। রবীন্দ্রজীবন ও কর্ম বিষয়ক অনেক মূল্যবান রচনা, গবেষণা, সংকলন, গ্রন্থ ও পত্রিকা প্রকাশ করেছিল সংস্থাটি। বাংলা ভাষা শিক্ষাগ্রহণের কর্মসূচি পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সালের জন্মজয়ন্তী উৎসব উদযাপন পর্যন্ত সংস্থার বহুবিধ কর্মকান্ডের সিংগভাগ দলিলপত্রই যথার্থ সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে গেছে তবু যতখানি পাওয়া যাচ্ছে তাতে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হচ্ছে যে--এই চার বছরের কর্মকান্ড নিঃসন্দেহে ছিল ব্যয়বহুল এবং শিক্ষাঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিশেষ সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছিল। সংস্থার মুদ্রিত আকারে প্রকাশিত প্রস্তাবনা থেকে জানা যাচ্ছে যে উদ্যোগীদের মধ্যে শুধুমাত্র রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনই একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল না, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধোত্তর জাপানের সমাজকে পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবতাবাদী শিক্ষাদর্শ প্রবর্তনের পরিকল্পনাও কাজ করেছিল।

এ হেন রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী উদযাপনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান যিনি রেখেছেন, যাঁর আগ্রহ ও উদ্যোগ না থাকলে এই মহান কর্মকান্ডটি কিভাবে কার দ্বারা সম্পাদিত হত তা এখন বলা সম্ভব না হলেও তৎসময় একজন প্রভাবশালী, প্রাচুর্যধারী এবং সুপরিচালকের প্রয়োজনীয়তা যে ছিল অনস্বীকার্য সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ মহাকর্মটি সম্পাদনা করেছিলেন প্রথিতযশা ব্যবসায়ী, চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, সমাজসেবক ডঃ কুনিহিকো ওওকুরা---রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনের বন্ধু। জীবিত অবস্থায় জাপানে তাঁর যে মাত্র ক’জন বন্ধু, ভক্ত এবং শুভাকাঙ্খী ছিলেন কুনিহিকো মহাশয় ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। বর্তমান জাপানি সমাজে বহু নমস্য ব্যক্তিদের সাথে তিনিও বিস্মৃত। রবীন্দ্রনাথের সাথে তাঁর সম্পর্ক সৃষ্টির প্রসঙ্গ উপস্থিত করার আগে তাঁর সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি।

চলবে...
     
Untitled Document

তিন পাপড়ির ফুল
প্রদর্শনী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফটো ক্লাব
Copyright © Life Bangladesh
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com