Untitled Document
কার্তিক সংখ্যা ১৪১৮
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
উন্নয়নের ‘মেসি’ দর্শন
- শুভ কিবরিয়া



১.
যা হয়েছে ভালোই হয়েছে,
যা হচ্ছে, তা ভালোই হচ্ছে।
যা হবে তাও ভালোই হবে।
তোমার কি হারিয়েছে- যে তুমি কাঁদছ?
তুমি কি নিয়ে এসেছিলে- যা তুমি হারিয়েছ?
তুমি কি সৃষ্টি করেছ- যা নষ্ট হয়ে গেছে?
তুমি যা নিয়েছ, এখান থেকেই নিয়েছ।
যা দিয়েছ, এখানেই দিয়েছ।
তোমার আজ যা আছে,
কাল তা অন্যকারো ছিল।
পরশু সেটা অন্যকারো হয়ে যাবে
পরিবর্তনই সংসারের নিয়ম।

গীতার সারাংশ এই উপদেশ বাক্যাবলি খুঁজে পেলাম এক জেলেঘরে। বিধবা জেলেবধূর স্বামীকে খেয়েছে সুন্দরবন। এক সন্তান নিয়েই তার জীবনের একলা চলা। এনজিওকূলের ভগ্ন সাহায্য, রাষ্ট্রের অবহেলা, নিজ জীবনের কষ্টপথ- সব মিলিয়ে ভদ্রমহিলার ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। অর্থনৈতিক দৈন্য, অনিশ্চয়তা আর কষ্টভাবনার সেই গলিপথ কবে আশার মহাসড়কে মিলবে তা তার অজানা। অথচ তার ঘরেই দেখি একটি ক্যালেন্ডারে গীতার এই দর্শনবাক্য!!
দারিদ্র আর নিয়তি জেলেবিধবাকে গীতা’র সারাংশে কতটা স্বস্তি দিচ্ছে কে জানে? তবে, এই বৈপরিত্য দেখে আমার ভীষণ মনে পড়ল বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়ন আকাক্সক্ষায় আর্জেন্টিনার ফুটবলতারকা লিওনেল মেসির বাংলাদেশ আগমনে।
মেসির এই আগমন যে জেল্লা ছোটাল মিডিয়ায় তার সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলের আদৌ কি কোনো সম্পর্ক আছে? যেখানে ফুটবলের তৃণমূল কাঠামো ধ্বংস, রাজনীতি খেয়ে নিয়েছে ফুটবল প্রশাসনকে- সেখানে উপরতলার আতর ছিটানো মেসির ফুটবল জাদু কিভাবে জাগাবে এখানকার ফুটবলকে?

২.
‘আমি ভারতের দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে ঘুরেছি এবং একটিও ভিখিরি অথবা চোর আমার নজরে পড়েনি। এমন সম্পদ আমি দেখেছি এই দেশে, এই উঁচু নৈতিক মূল্যবোধ, এত মেধাবি মানুষজন-আমি মনে করি না, এই দেশকে প্রকৃত অর্থে জয় করা যাবে, যদি না এই জাতির মেরুদ- আমরা ভেঙে দিতে পারি-যা হ’ল তার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সুতরাং আমার প্রস্তাব হলো, তার পুরনো ও প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা, তার সংস্কৃতিকে প্রতিস্থাপিত করা-যাতে ভারতবাসীরা ভাবতে শুরু করে যে, যা কিছুই বিদেশি ও ইংরেজি তাই ভালো এবং নিজেদেরটির চেয়ে ঢের ভালো-যার ফলে তারা তাদের আত্মসম্মানবোধ, তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে হারাবে এবং তারা হয়ে উঠবে, যা আমরা চাই, একটি বিশ্বস্ত পরাধীন জাতি।’

- ২ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৩ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রদত্ত লর্ড মেকলে’র ভাষণ

মেকলে’র এই ভাষণটি পেলাম এক তরুণ বুন্ধর লেখা এক গদ্যে। এই গদ্যটির শুরু হয়েছে মেকলে’র এই ভাষণাংশ দিয়ে। এই ছোট্ট অথচ তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গীই প্রমাণ করে উন্নয়ন দর্শনে আমাদের গরিবীপিনার কারণ কি?
কেন আমরা দেশের ফুটবল অবকাঠামো ঠিক না করে, তৃণমূল ফুটবলকে সংগঠিত না করে, বাইরের রোশনাই জ্বালিয়ে ভাবি আমাদের উন্নয়ন হবে!!
সে কারণেই আজ বাংলাদেশের উন্নয়নচিন্তার এই দশা!! সে কারণেই দেশের গ্যাস কম দামে বিদেশিদের দিয়ে তাদের কাছ থেকেই উচ্চমূল্যে কিনে আমরা কাজে লাগাই। সে কারণেই, দেশের খনিজসম্পদের মালিকানা বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে, আমরা আনন্দউল্লাস করি!!
উন্নয়নের এই হাভাতে ‘মেসিদর্শন’ কাটাতে না পারলে- একটি বিশ্বস্ত পরাধীন জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব যে আরও অনেককাল বেঁচে থাকবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
     
Untitled Document

তিন পাপড়ির ফুল
প্রদর্শনী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফটো ক্লাব
Copyright © Life Bangladesh
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com