Untitled Document
কার্তিক সংখ্যা ১৪১৮
মূলপাতা শিরোনাম বটতলা পঞ্জিকা প্রদর্শনী
সভ্য ছোবল লৌকিক বিষ
- ফেরদৌস নাহার

আমরা দুজন দু’জনকে          প্রচণ্ড ভালোবেসেছি
অথচ দেখো সে ভালোবাসা    নদীর জলে প্রবাহিত
আমরা দু’জন                     দু’জনকে ভালোবেসেছি
আহা! উহু!                         জলে ভিজ না খোকাখুকু
অথচ দেখো সে ভালোবাসা    নদীর জলে প্রবাহিত।

উল্টো দিক থেকে জাপটে ধরেছি
মূলত শূন্যতা গোগ্রাসে গিলি
অসম বিষাদ, অযুত স্বপ্ন
ধ্বংস-হারাপ্পা জীবন-প্রশ্ন
সব একে একে গুণতে বসেছি
মূলত শূন্যতা একাগ্র গিলি।

জলের মতো     আগুন খেয়েছি
প্রসাধন ভেবে    আগুন মেখেছি
উপহার যেন      আগুন দিয়েছি
এই সহবাস আগুনের মতো ফুলকি ছুঁড়ে
ফুলের সাথে বৈরিতা করে নিজের ভুলে
এক কঠিনেরে ভাঙতে গিয়ে আরেক কঠিন
মুখ ফিরে রাখে বনিবনাহীন বেশ্যার মতো।
মিথ্যে চাষাবাদ অন্যভাবে
জীবনের পাশে গড়াগড়ি খেয়ে
জানতে চেয়েছে-
মানুষ কোথায় লুকায় সত্য
কিংবা সততা অভিধান খুলে
কী পাঠ নিয়েছে এতকাল ধরে?

আমি,
মানুষের মুখে দিয়েছি চুনকালি
আমার তাতে কী, হি হি হেসেছি
হাসতে হাসতে ভূমিতে লুটিয়ে
পাথর তুলে তীব্র মেরেছি
দু’একটি পাখি    মারা পড়েছে
দু’একটি ফুল     সহসা ঝরেছে
দু’একটি নদী     ঈষৎ কেঁপেছে
আমার তাতে কী
আমি তো মেরেছি!
বগল বাজিয়ে
আদিম নৃত্য       করতে করতে
পথের দু’পাশে   যত পথ ছিল
সব পথগুলো      বন্ধ করেছি
জলে ভিজেছে     জলের ন্যাকামি
এলোকেশে খুব   হেঁচকি তুলেছি
গুন গুন গান       গাইতে গাইতে
গাছের গুড়ি        গুণতে লেগেছি
বদরাগী মেয়ে     বদের হাঁড়ি
গাছও চেনে না    পাথরও না
শুধুই চিনেছে      শরীরের ঘাম
পুরুষ গন্ধ          পাঁজরের হাড়
চিবিয়ে খেয়েছে   মায়াবতী মেঘ
পাহাড়ের নাম     আদরের স্রোত

 
কেউ যেন আজ লণ্ঠন তুলে
সুখ খুঁজে মরে রূপের বাজারে
ঝুপড়ি ঘরে গোপন করে
কে যেন দেয় টানা টুকুস।
আমি চিনি ওই বেকুব বেহায়া
শরীর পেলে দারুণ চালাক
আষ্টেপৃষ্টে বুলিয়ে দু’হাত
তখন কেমন বেহায়া বাচাল।
পাগলের মতো গন্ধ শোঁকে
এটা লাথি মারে ওটা টেনে ধরে
সংখ্যা ক্রমে বেড়েই চলে
ভদ্র পাড়ায় আগুন লাগে
গুহার প্রাচীরে ফাটল ধরে
আদিম পশুরা জাগতে থাকে।
আমরা দু’জন ভালোবেসে শুধু
সেই প্রথাগুলো ভাঙতে চেয়েছি
খামচে ধরেছি নতুন নিয়ম
অথচ সেও আধাসমাপ্ত
শেষটুকু তার হয়নি গড়া।

জলে ভিজ না খোকাখুকু আহা
তীব্র জলে শুধুই ঝামেলা
অকারণ বাড়ে রক্ত ঝড়ে
মুঠিতে স্বপ্ন দুমড়ে মুচড়ে
মিথ্যেবাদী হওয়াটা সহজ
আজ সবকথা প্রাচীন শোনায়
নিদ্রার ঘোরে কঠিন বাকল
জড়িয়ে ধরেছে শাপিত বক্ষ
শান্তিভ্রষ্ট লক্ষ্যচ্যুত
একটি জীবন প্রণয় পেয়েও
অভিশপ্ত অভিশপ্ত!

বিস্মৃতি বড়ো বিপজ্জনক
শীতবৃক্ষের ন্যাঙটো শাখা
শাখা পড়ে আছে, পাতা নেই যার
সেরকম লাগে বিস্মৃতি যেন
ভারী হয়ে আসে চোখের পাতা
ভারী হয়ে জমে কুয়াশা-কাতর
অনুনয় আর অনুরোধ যত
কণ্ঠের কাছে রোধ হয়ে আসে
সেসব লুকিয়ে কোথায় যাবে
কোনখানে পাবে গোলাপ স্বদেশ
জন্মভারে অবনত ভূমি
অবিনশ্বর হাতাহাতি খেলা
এসব ফেলে কোথায় যাবে
নরক পাবে না স্বর্গও দূর
এসব ফেলে যতদূরে যাই
তবু ভালোবাসা চেয়ে থাকে ঠাঁই
তার দৃষ্টি একটু নড়ে না
একটুও যেন পলক পড়ে না।

এই সেই গাছ
যেখানে বৃষ্টি বজ্জাতি করে
ভারী রাত্রির আলপনা আঁকে,
এই সেই দেশ
যেখানে তোমাকে ভালোবেসে আমি
মিথ্যেবাদীর পদক পেয়েছি
বিপজ্জনক স্মৃতির ফলকে
সেসব আজকে লটকে দিয়েছি।

 আমি যেন মেঘ     চুল উড়িয়ে
বৃষ্টি নামক          সৃষ্টি এনেছি
আধা সমাপ্ত         নিয়মগুলো
এক এক করে      শেষ করেছি
তা থেকে এখন     অন্ধপাখি
খুক খুক করে       কাশতে কাশতে
ক্ষ্যাপা দরগার      কাছেতে গিয়ে
লুটিয়ে পড়ে         সিঁড়ির ধারে
যা আছে এখন      তাই দিয়ে ওকে
বাঁচিয়ে তোলো      বাঁচিয়ে তোলো।

আমরা দু’জন       যে প্রেম চেখেছি
সে প্রেম কিছু        লোকাতীত নয়
বড়ো মানবিক       শাশ্বত গাঢ়
শুধু তার মাঝে      হিস হিস করে
সর্পসম বেহায়া      দালাল
কোনদিন এসে      না-দিক ছোবল
এই চেয়েছি         এই তো চাওয়া!

চাইলে কী সব পাওয়া যায় বলো
তা থেকে এখন সৃষ্টি হচ্ছে
ভাঙচুর যত কুরুক্ষেত্র।
তোমাকে আমি দোষ দেব না
নদীকে সাক্ষী করেছ যখন
তখনই জেনেছি সব ভেসে যাবে
সবকিছু যাক- হৃৎসম্পদ
সেটুকুও কি বাকি রইবে!

এই আমি খুব আঙিনার ধারে
একটি বৃক্ষ পিলসুজে ধরে
গাফলতিতে তুলছি ঢেকুর
তখনো বুঝিনি বাতাসের জোর
গান্ডিব হয়ে আসছে ধেয়ে
এখন আমার গোপন ঘরে
ভীষণ জলের ক্রন্দন রোল
সবাই কেমন মিথ্যেবাদি
সবাই কেমন দেঁতোহাসি হাসে
বিব্রত সেই হাসির জন্যে
সসম্ভ্রমে স্থান ছেড়ে দিয়ে
পালায় সময়।
যুদ্ধপাড়ায় মৃত্তিকা নেই
বিশীর্ণ হাড় কঙ্কাল ছাড়া
এই ভূভাগ উঠছে দুলে
ক্রোধের ভারে আস্তে আস্তে
যিয়ন কাঠি, সোনার বাটি
হারিয়ে গিয়েছে উগ্রচণ্ডী
খা খা সীমান্তে।
নিজেকে এখন জ্ঞানত জানাই
যার যা খুশি নিয়ে যাক সব
আমার সময় ক্ষুব্ধ পাবক নিয়ে যাক সব
মিথ্যে ফলক শুধু পড়ে থাক
বিক্ষিপ্ত কবর জুড়ে।

পরমোৎসব কতদিন নেই
পরলোক আছে পশ্চিমে ঠিক
পূর্বাশা এক নদীর তীরে
পূজো দিচ্ছি বাঙ্গাল ভূত
অশান্ত কোন ক্রন্দনরোল
শুনে শুনে আজ মুখস্থ হয়
জন্মপাঠের অধ্যায়গুলো
খুব নাম করা, উন্নত নয়
তবুও মানুষ জন্মায় দেখ
শুদ্ধ জরায়ু খুলে খুলে পড়ে
মানুষ নামের লুপ্ত প্রজাতি
তাহার দু’চোখে চশমা এঁটে
শোকযাত্রা পালন ক’র।
একটি কবি রক্ত চাখে,
অন্য কবি ঘুমায় ঘোর
দু’জন দেখ- 
দু’ধরনের ভুলে বিভোর।
ঠিকেদারি প্রথা মর্ত্যে এসেছে
এখন প্রণয় অন্যরকম
গাল ভর্তি দাড়ি নিয়ে
উস্কোখুস্কো ক্ষিপ্ত প্রেমিক
পদে পদে যার সুরার সখ্য
ফর্সা ফুলের চঞ্চলতা
পঙ্গু জীবন অধর বেয়ে
ঝরে পড়ে লালা, সস্তা সাহস
ভয় দেখিয়ে রাজ্য বিজয়
কল্কের টান দিগ্বিদিক
খোকাখুকু আহা ঝড়ে যেও না
আম জাম ফল কিছু পাবে না
বৃদ্ধাঙ্গুলি পেয়ে যাবে খুব
সস্তা এবং বস্তাপচা
পানপাত্রে অভ্যাস আছে
এটুকু জেনে জীবিত জীবন
খুব ঝাঁকি দেয় কাঁধের বাঁধন
সখের রাজা সখের উজির
পাত্রমিত্র সবাই কেমন
নেশায় ঝিমায় নৃত্যরত
লোহার গ্রিলে মাথা ঢুকে গেছে
তদন্ত তার পড়ে থাকুক
ঠিক সময়ের ঠিক জন্ম
বার বার করে চেয়েছ যখন
সমুদ্র চিনে এসো একবার।

আমি সবকিছু বদলে দেব
জয়ধ্বনির সাথে সাথে
দেব বদলে সবকিছু আমি
নব্যজীবন আহত পাখি
একটা কিছু করতে গেলে
জমে ওঠে হায় যতটা ফাঁকি
সবকিছু আমি বদলে দেব
পথের দু’ধারে জয়মাল্য
দু’হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থেক
বিগত জন্মে যত পাপ ছিল
ধুয়ে ধুয়ে তা এগিয়ে যাব
এক লহমায় মুছে যাবে সব
সোনার শিকলে বাঁধা পড়া প্রাণ
উড়ে যাবে দূর নৈদাঘে
উজার বর্ষা মাতিয়ে ভুবন
কত কিছু আছে চাওয়ার মতো
বিস্ফোরণের বিষচুমু দিয়ে
এঁকে দেব ছাপ নিজ হাতে।               
ভালোবেসে আমি   ন্যাঙটো হয়েছি
মুখে মেখেছি         অদৃশ্য কালি
সবার মুখে           চুনকালি দিয়ে
এইবার দেখ         তলিয়ে যাব
প্রথম দিনের         মতো একবার
নতুন করে            যদি সব পাই 
এ-মাথা ঠুকরে      ফাটিয়ে দেব
মগজ ঠিকরে         পড়ুক পায়।
Untitled Document

তিন পাপড়ির ফুল
প্রদর্শনী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফটো ক্লাব
Copyright © Life Bangladesh
সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact : shapludu@gmail.com