Untitled Document
আকন্দ কথকতা
...greedy they pluck'd
The Frutage fair to sight, like that which grew
Neer that bituminous Lake where Sodom flam'd;
This more delusive, not the touch, but taste
Deceav'd; they fondly thinking to allay
Thir appetite with gust, instead of Fruit
Chewd bitter Ashes, which th' offended taste
With spattering noise rejected: oft they assayd
Hunger and thirst constraining...
(bk. 10, ll. 520–528) [Paradise Lost, John Milton]

জলপাইগুড়ির কারিপাড়া গ্রামে যখন এ ফুলের ছবি তুলি তখন তো ভেবেছিলাম এটা আকন্দ গাছের ফুল। পাঁচ পাপড়ি, থোকা ধরে ফোটা, পাপড়ির ওপর গোলাপি মেশানো খয়েরির ছোপ। বড় সুন্দর ফুল। ফুলটা ছাড়া আর সবকিছু আমাদের পরিচিত আকন্দের মতো। সেই লম্বা গুল্ম, একইরকম কাঁঠালের মতো পাতা, ওপরটা সাদাটে। কিন্তু এবার সাপলুডুর জন্য লিখব বলে কিছু তথ্য জানতে ওয়েবে ‘আকন্দ’ লিখে যখন খুঁজলাম দেখি যা আসছে সবই আমাদের নিত্য দেখা সাদা আর বেগনি আকন্দ ফুলের ছবি। উইকিতে তার বৈজ্ঞানিক নাম Alotropis gigantea. সেখানে বলা হয়েছে Alotropis gigantea ফুল ঐ দুই রঙই হয়। বেশ ধাঁধায় পড়ে গেলাম - এ তাহলে কী গাছ?

শেষে অনেক খুঁজে তার পরিচয় মনে হয় মিলল। মনে হয় বলছি কেননা ওয়েবসাইটগুলোতে ফুলটার যে ছবি দেখছি সেটা আমার তোলা ফুলের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিললেও আকারে মনে হয় একটু ফাঁক থেকে যাচ্ছে। এর নাম Alotropis porcea. Alotropis gigantae অর্থাৎ আমাদের পরিচিত আকন্দ আর Alotropis porcea  গাছ দেখছি একই পরিবার বা Alotropis porcea -তে পড়েছে যার নাম Asclepiadaceae.

উইকিতে দেখছি এ দু’টো প্রজাতির আবাসে কিছু তফাৎ আছে। Alotropis gigantae অর্থাৎ আমাদের পরিচিত আকন্দর প্রাকৃতিক আবাস দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া - ভারত থেকে শুরু হয়ে শ্রীলংকা, চীন, বাংলাদেশ, মায়ানমার, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন।

অন্যদিকে আমার রঙিন রূপবান আকন্দটির প্রাকৃতিক আবাস অনেক বেশি বিস্তৃত - আফ্রিকার কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ, আলজেরিয়া, মিশর, লিবিয়া, মরক্কো, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া, সুদান, কেনিয়া, তানজানিয়া, উগান্ডা, ক্যামেরন, বিষুবীয় গিনি, গাম্বিয়া, ঘানা, গিনি-বিসাউ, মৌরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, সিয়েরা লিয়ন, এশিয়ার আরব উপদ্বীপ, পশ্চিম এশিয়া, ভারত উপমহাদেশ, মায়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। তাছাড়া মানুষ দুই আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল ও আফ্রিকার অন্যান্য অঞ্চলেও এ প্রজাতিটিকে নিয়ে গিয়ে জন্মাতে সক্ষম হয়েছে।
এবার নামপর্ব। একটা সমস্যায় পড়া গেছে। বাংলায় মনে হচ্ছে দুই প্রজাতিরই নাম আকন্দ। দু’টোকে আলাদা করতে কারিপাড়ার আকন্দের নাম ‘রূপসী আকন্দ’ দেই? আমাদের চেনা আকন্দের পাশে ওর ঝলক তো একটু বেশিই। ইংরেজীতে গাছটার অনেকগুলো নাম পাচ্ছি - apple-of-Sodom, auricula-tree, cabbagetree, camelweed, giant-milkweed, kapoktree, Prince-of-Wales crown, rubberbush, rubbertree, small crownflower, Sodom's-milkweed, Sodom-apple, swallowwort.  সংস্কৃতেও পাচ্ছি একাধিক নাম, বাংলা বানানে সেগুলো কীভাবে লিখতে হয় বুঝতে পারছি না বলে ইংরেজীতে যেভাবে পেয়েছি সেভাবেই উল্লেখ করলাম - Arka, Sooryahvaya,Vasuka, Ksheeraparni, Alarka, Asphoda.

প্রাচীন আরব, ইসরাইল ও ভারতে রূপসী আকন্দের বেশ ব্যবহার ছিল বলে মনে হয়। আরবে এ গাছের নাম ঊ’শার ('Ushar)কিংবা আশখার (Ashkhar)। গাছের বিভিন্ন অংশ যেমন বিভিন্ন রোগে ব্যবহার করা হতো তেমনি এর ফলের ভেতরে যে তুলার মতো অংশ পাওয়া যায় সেটা দিয়ে প্রদীপের সলতে, বালিশের তুলা কিংবা কাপড় বোনার সুতাও তৈরি হতো। ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ মিশনাহ (Mishnah) আর তালমুদএ এ গাছের উল্লেখ আছে। ওয়েবসাইটগুলো পড়ে মনে হচ্ছে প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদে দু’টো প্রজাতি নিয়েই কাজ হয়েছে আর আরবে কাজ হয়েছে রূপসী আকন্দ অর্থাৎ Alotropis porcea নিয়ে। এখনকার বিজ্ঞানীরা বলছেন মানুষের কাজে লাগার মতো অনেক উপাদান থাকা সত্ত্বেও আকন্দ নিয়ে আধুনিক বিজ্ঞান খুব একটা কাজ করেনি।

জলপাইগুড়ির কোন চিপায় ফুটে থাকা এক গাছ নিয়ে এত কাহিনী! মাথাটা গুলিয়ে গেল। কী আশ্চর্য, অমর কবি জন মিল্টনও প্যারাডাইজ লস্টে রূপসী আকন্দকে উল্লেখ করতে ভোলেননি। সে অবশ্য তার রূপ কীর্তন নয়। মিল্টন লিখেছেন আদম ও ঈভ শয়তানের প্ররোচনায় নিষিদ্ধ ফল খেতে প্রলুব্ধ হলে পরে শয়তান তার অনুচরদের নিয়ে বিকট আনন্দে রূপসী আকন্দের ফল খেয়েছিল। এ লেখার মাথায় সেই উদ্ধৃতিটাই দিয়েছি।  

জ্ঞানপিপাসুদের জন্য আকন্দ সম্পর্কিত কয়েকটা অন্তর্জাল ঠিকানা দিলাম। এক নম্বর ঠিকানাটি এ লেখার সঙ্গে আমাদের পরিচিত আকন্দের যে ছবি দেওয়া হয়েছে তার উৎস।
  1. http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/8/81/Calotropis_gigantea.jpg
  2. http://en.wikipedia.org/wiki/Calotropis_procera
  3. file:///C:/Documents%20and%20Settings/priscilla/Desktop/Akanda%20-%20Karipara/Akanda%20-%20web/taxon.pl.htm
  4. http://www.hort.purdue.edu/newcrop/cropfactsheets/calotropis.html
  5. http://ejbiotechnology.info/index.php/ejbiotechnology/article/view/v13n6-7/1277

 

লেখা ও Alotropis porcea-এর ছবি: প্রিসিলা রাজ




Calotropis gigantea
ছবিঃ সংগৃহীত (উইকি)

Alotropis-porcea
আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ

Alotropis-porcea
আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ

Alotropis-porcea
আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ

Alotropis-porcea
আলোকচিত্রী : প্রিসিলা রাজ
 
 
Untitled Document