Untitled Document
প্রদর্শনী
ভাস্কর্য - সৈয়দ তারেক রহমান

xmlphotoalbum


সৈয়দ তারেক রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের এম.এফ.এ. প্রথম পর্বে ছাত্র।

নানান ধারায় ভাস্কর্য করেন তারেক রহমান । মেটাল কাষ্টিং, সিমেন্ট কাষ্টিং, ফাইবার কাষ্টিং এবং কাঠ জোড়া দিয়ে করা নিজস্ব ধারনায় কাজ করছেন। যেহেতু এখন এম.এফ.এ. প্রথম পর্বে মাত্র অধ্যায়ন শুরু, তাই বেশির ভাগ কাজেই আছে স্বকীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার ছাপ। পরীক্ষা-নিরীক্ষার শুরু বলেই হয়তো কাজগুলি একটা নির্দিষ্ট ধারায় আবদ্ধ থাকেনি। তারেকের ইয়োগা নিয়ে কাজ গুলো বেশ অন্যরকম। যা ইতমধে এনে দিয়েছে বেশ কটি পুরুস্কার। ইয়োগা প্রাচ্যের অতি প্রাচীন এক শরীর চর্চার কৌশল। প্রাচীন যে বুদ্ধ বা অন্যান্য ভাস্কর্য আমরা দেখি তা সরল ধ্যান বা ইয়োগার একটা পার্ট।

মুলতঃ আধুনিক ইয়োগাকে তার ভাস্কর্যের বিষয় হিসেবে নিয়েছি যেগুলো অপেক্ষাকৃত কষ্টকর এবং শরীর ও মননের উৎকর্ষের জন্য অধিক উপযোগী। যুগ যান্ত্রিকতায় লাগাতার নগর ব্যস্ততার মাঝে দেহ-মনের সামান্য পরিচর্যার নিখাত সত্য সুন্দরের প্রয়াসী হওয়ার নামান্তর মাত্র।

একটা দরজা অনেক কিছুই বোঝাতে পারে। বন্ধ দরজা গোপনীয়তা বা প্রতিবন্ধকতার অর্থবাহী। আবার কখনো তা নিরাপত্তার প্রতীকও বটে। অন্যদিকে দরজা যখন খোলা তখন তার স্বাধীনতা, উদারতা, বাধাহীন এবং ভেতর-বাইরের একতার কথাও বলে। কাঠ জোড়া করা ভাস্কর্যে মূলতঃ আধুনিক যান্ত্রিক সময় এর প্রতীক হিসেবে ছোট ছোট কাঠ কিছুটা এলোমেলোভাবে জোড়া দিয়ে ফিগারের ফর্ম এবং ছোট ছোট অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ফর্ম করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আবার ছান্দিক এক সৌন্দর্য সৃষ্টির প্রয়াস রয়েছে। এক্ষেত্রে দরজা অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করি। বোঝাতে চেয়েছি যে, যান্ত্রিকতা আমাদের ভেতরের আমিকেও দুর্বোধ্য জটিল করে তুলেছে। আমাদের মনের অভ্যন্তর ও বাহ্যিক রুপ এক নয়। সক্রেটিস-এর মতে জগতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন বাধা নিষেধ থাকলেও শাশ্বত সত্যও সুন্দর সবখানেই এক এবং তা প্রতিটি মানুষই অবচেতনভাবে ধারন করে। মনের অন্তর্নিহিত সত্য সুন্দর এর কাছে আমরা ফিরে গেলেই এই যান্ত্রিকতার মাঝেও আমরা এক অন্য নান্দনিকতার দেখা পাব।

পাশাপাশি প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য জীবন্ত আশির্বাদ বৃক্ষ অথচ মানুষ এর নির্বিচার নিধনে নেমেছে, হয়ে দাড়িয়েছে এর প্রতিপক্ষ। এই বিষয়ও প্রতিফলিত হয়েছে কাজে। গাছ যেখানে অবাধে বেড়ে উঠত সে পৃথিবীটা গোল ছিল। কিন্তু বর্তমানে গাছ তথা প্রকৃতি মানুষের হাতে যেন তিলে তিলে শেষ হয়ে যাবার উপক্রম। তাই গোলাকার পৃথিবী যেন এক চৌকা বাক্স বা শক্ত পাথর অথবা যান্ত্রিক মেশিন যার উপর মৃত প্রায় বৃক্ষ উপরে কোন এক অজানা আকুতিতে প্রসারিত হয়ে আছে বেঁচে থাকার আশায়। এই বিষয়টিও ভাস্কর্যের প্রতিফলনের চেষ্টা করা হয়েছে।
সাপলুডুর অন্যান্য সংখ্যায় প্রকাশিত প্রদর্শনীসমূহ
সাপলুডু | shapludu
Untitled Document