Untitled Document
এ্যালবাম
ধুলট মূলে
কল্লোল দাশগুপ্ত

এ মাসের এ্যালবামঃ
০১। ধুলট মূলে
০২। কোন পারাপার
০৩। মাপওয়ালা
০৪। সংসারে পাথর
০৫। আমার হৃদয়
০৬। হে ক্ষেপা
০৭। তুমি ভালোবাসো
০৮। বন্ধু দে ছায়া দে
০৯। কোন এক গভীর অরণ্য থেকে
১০। কে যেন ডাক দিয়ে যায়

ধুলোট মূলে
আন্তর্জাল প্রকাশঃ চৈত্র ১৪১৮ / এপ্রিল ২০১২
আন্তর্জাল প্রকাশঃ সাপলুডু ও গুরুচন্ডা৯
শব্দ গ্রহনঃ কুসুম স্টুডিও সেপ্টেম্বর ২০০৪
শব্দ গ্রাহকঃ সঞ্জয়
মিক্সিংঃ সমতা স্টুডিও নভেম্বর ২০০৪
শব্দ সম্পাদনাঃ সমর
রিদম গিটারঃ সুব্রত, ধ্রুব
বেজ গিটারঃ ধ্রুব
বাঁশিঃ সুবীর
দোতারাঃ সাত্যকী
হারমোনিয়ামঃ ঋজু
তবলাঃ বিশ্বনাথ, উদয়
পারকারশনঃ মানিক
যন্ত্রানুসঙ্গ পরিচালনাঃ ধ্রুব
কথা ও সুরঃ কল্লোল দাশগুপ্ত

কোনা এক গভীর অরন্য থেকে - কথা সংহিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গদ্য


১৯৭৭। ৩১ আগষ্ট। বছর বাইশের এক সদ্য তরুন প্রাণকে ছুঁড়ে দেওয়া হলো মঞ্চে। মঞ্চের সামনে সারা পার্ক জুড়ে মানুষ। নির্ধারিত বক্তারা তখনও পৌঁছাননি। গত পাঁচ বছরের সরকারী সন্ত্রাস ও শেষ উনিশ মাসের জরুরী অবস্থার দমবন্ধ করে দেওয়া সময় তখন সদ্য অতীত। সেই শহীদ দিবসে সকাল থেকে শহর ঝেঁপে বৃষ্টি ধরেছে সবে। চেৎলা পার্ক ঝলমল করছে সবুজ। সেখানে তখন ঢল নেমেছে মানুষের। সেই যারা প্রায় এক যুগ আগে ডাক দিয়েছিলো সত্তর দশককে মুক্তির দশকে পরিনত করার, সেই এক যুগ ধরে যাদের অস্তিত্ব ছিলো ছায়াচ্ছন্ন কারাগার ও নির্বাসনে, তাদের কথা শুনতে এসেছে মানুষ। আর নির্ধারিত অনষ্ঠানসূচীর বদলে মঞ্চে এক তরুন গান ধরে। গান ছড়িয়ে পড়ে পার্কের কোনায় কোনায়। যন্ত্রানুসঙ্গবিহীন খালি গলার গান ছড়িয়ে পড়ে বন্ধুদের হৃদয়ের অন্তস্থলে। শুরু হয় গানের পথচলা।

যাত্রা শুরু হলো, রাসবিহারী-কালিঘাত-কে ওড়াতলা অঞ্চলের রাস্তা রাস্তায়, মাঠে ঘাটে মিটিং এ মিছিলে। এভাবে পথ চলতে চলতেই গানের বন্ধুরা একসাথে একজোটে গানের দল অঙ্কুর। কলকাতা-শহরতলি ছড়িয়ে গান তখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সারা পশ্চিম বাংলা - আইপিটিএর গান, সত্তরের গান গলায় নিয়ে। তবু কোথা সুর কাটে। ধূসর হতে থাকে স্বপনসকল। সময়ের জটিলতা প্রকাশে ব্যর্থ হচ্ছে এই সব গানেরা। আজকের গান কই। খোঁজ চলে, খুঁড়ে চলে গান নিজেকেই নিরন্তর।

এমন সময় পশ্চিম আকাশের ঝড় কাঁপিয়ে দেয় গানের আমিকে। বেলাফন্তে, জোন বায়েজ, পিট সিগার, বিটলস, জন লেনন, বব ডিলান, বব মার্লে... কোথাও সে খুঁজে পেলো নিজেকে, সময়কে। নতুন কথা, নতুন সুর নতুন গান। এতোদিনের বন্ধুরা স্বস্তি পায় না। তারা সেই উদ্দীপনের গানের দূর করতে চায় সময়ের শৈত্য। অথচ গান তো প্রকাশিত হতে চায় সময়কে বুকে নিয়ে। বিচ্ছেদ আসে। এবারের পথ চলা একলষেড়ে শীতের হাওয়ায় হাওয়ায়। আবারও নতুন বন্ধু, গানের দল - কোলাজ। সেও সময়ের সাথে সাথে বিখরে পড়ে পথের মাঝে। এবারের সাথী শুধু একখানা ছয় তারের যন্তর।

এতো দিনে তার পথের মুক্তি ঘটেছে গন্তব্যের বাধ্যবাধকতা থেকে। গান তার সামনে এসে দাঁড়ায় এক হাঁটু ধুলো নিয়ে। সে গেয়ে ওঠে - অনন্তে এক পথ রয়েছে। আমি হাঁটি সে পথ ধরে... আবারও রাস্তায় নামে গান। বইমেলার মাঠে, ট্রেনের কামরায়, চায়ের দোকানে, বহুদিন বাদে দেখা হাওয়া বন্ধুর সাথে পার্কের বেঞ্চে, পাঠশালার চত্বরে, ছবির হাটে। এভাবেই গেয়ে ওঠে গান, প্রকাশিত হয় গান, মঞ্চের মায়া ছড়িয়ে গিটার হাতে পাড়ি দেয় গান - হৃদয় ভেঙ্গে টুকরো করে ছড়িয়ে যায় তারায় তারায়, পাতায় পাতায়, সবার খাঁচায়।
পথ চলা তার আপন তালে, খেয়াল পথের ধারে ধারে, কুড়িয়ে নেয়া বন্ধু এবং বন্ধুতা। এসব নিয়েই বেশ আছে সে, আপাততঃ দূরের দেশে, হাত বাড়ালেই হৃৎকমলে দেয় দেখা। তুমি আমায় ভাবতে থাকো, আমি তোমায় ভাবতে থাকি, দেখা হবে, হবেই হবে, হবেই......

প্রচ্ছদ ছবিঃ মোস্তাফিজুর রহমান

সাপলুডুর অন্যান্য সংখ্যায় প্রকাশিত গানের সংগ্রহ
Untitled Document