Untitled Document
নাটক

জ্বালা - ঋত্বিক ঘটক
(১ম পর্ব)
Get the Flash Player to see this player.



 
ভূমিকা

এই নাটকটি ইংরেজি ১৯৫০ সালে লেখা হয়েছে। ওরই কিছুদিন আগে কলকাতা শহরে এক মাসের মধ্যে বহু মানুষ আত্মহত্যা করেছিল। তাদেরই কয়েকটি চরিত্র গ্রহন করে এই নাটকে সন্নিবিষ্ট করা হয়েছে। একমাত্র উন্মাদের চরিত্র ছাড়া আর সবকটি চরিত্র জীবন থেকে গ্রহন করা। সেদিক থেকে নাটকটিকে ডকুমেন্টারি বলা যেতে পারে।
এবার চরিত্রগুলির একটু করে পরিচয় দিয়ে দিই।
শেফালী বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট ফলতা লাইনের কালীঘাটের স্টেশনমাস্টার কালিদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী। উনি গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। কারন, ছেলেদের না-খাওয়া মুখ তিনি আর সহ্য করতে পারেননি।
খোকন। বাস্তুহারা ছেলে। মা-দিদির কষ্ট চোখের সামনে দেখে অস্থির হয়ে হাওড়া স্টেশনের কাছে একটা লেভেল ক্রসিং এর সামনে একটা ট্রেনের তলায় ঝাঁপ দেয়।
পূর্নবাবু। উনি জিপিও-তে কাজ করতেন। ষাট বছর বয়সে কোনো কারন না দেখিয়ে ওঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু জল খেয়ে দিন এর পর দিন উনি ডালহাউসি স্কয়ারের রাস্তায় চাকরির জন্য বিভিন্ন অফিসে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। কোথাও পাননি। তার পরে বার্মাশেলের অফিসের চারতলা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন।
ভোলা। ছিল ব্যারাকপুর অঞ্চলে এক চটকলের মজুর। কাজ করতে করতে ওর ফুসফুসে অনেক পাটের শুঁয়ো ঢুঁকে যায়। ফলে ওর টিবি হয়। বিভিন্ন জায়গায়, হাসপাতালেও চিকিৎসার জন্য ভিক্ষে করে বেড়ায়। কোথাও ওর স্থান হল না। ও আত্মহত্যা করল।
পিওন। প্রেসিডেন্সি কলেজে কাজ করত। রিপন কলেজে ভর্তি হয়েছিল। লেখাপড়া শেখার অদম্য ইচ্ছা ছিল। কয়েকমাস মাইনে পায়নি, এদিকে পরীক্ষা সামনে, ফি জমা না দিলে পরীক্ষায় বসতে দেবে না। প্রিন্সিপালের কাছে নিজের প্রাপ্য টাকা চাইতে গেলে, তিনি ওকে অপমান করে তাড়িয়ে দিলেন। পরদিন সকালে দেখা গেল ওর মৃতদেহ ঝুলছে ওই প্রেসিডেন্সি কলেজেরই একটা কড়িকাঠ থেকে।
এইসব চরিত্রের পটভূমিগুলো মনে করলে হয়তো ভাবা যায় যে এই নাটকের পিছনে কিছু ব্যথার ব্যাপার আছে। যারা করবেন তাঁরা যদি এই ব্যাপারটা মাথায় রাখেন, তা হলে কৃতার্থ হব।
এই নাটককে প্রয়োগ করতে গেলে একটু স্ট্রিন্ডবার্গ-এর কথা মনে রাখলে কাজের আসতে পারে। এর প্রয়োগকৌশল হওয়া উচিত সম্পূর্ন এক্সপ্রেশনিস্ট। অলমতি বিস্তরেণ।

শ্রীঋত্বিককুমার ঘটক





Copyright © Life Bangladesh সাপলুডু মূলপাতা | মতামত Contact: shapludu@gmail.com